বিদ্যালয় মেরামতের টাকায় ভাগ বসালেন লামার ইউএনও

নিজস্ব প্রতিবেদক
 ছবি:
ছবি:

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বান্দরবানের লামা উপজেলার ভোট কেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তার দোহায় দিয়ে সিসি ক্যামরা লাগানো কথা বলে প্রায় ৮ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠছে লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ মঈন উদ্দিনের বিরদ্ধে। 

 

লামা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সুত্রে জানা যায়, প্রতি বছরের ন্যায় লামার প্রতিটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এবারও এক থেকে দেড় লক্ষ টাকা করে মেরামতের টাকা আসে যার মধ্যে ৩৪ টা বিদ্যালয় নির্বাচনী ভোট কেন্দ্র ছিল। কিন্তু স্কুলের এই টাকায় ভাগ বসায় লামা ইউএনও মঈন উদ্দিন।

 

নির্বাচনে নিরাপত্তার দোহায় দিয়ে সিসি ক্যামরার প্রকল্প নিজে বানিয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারকে সিসি ক্যামরা বসাতে এক প্রকার বাধ্য করে । কোন টেন্ডার ছাড়াই প্রতি ভোট কেন্দ্রে সিসি ক্যামরা বসানোর কথা বলে ৪৫ হাজার টাকা করে মোট ১৫ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা ইউএনওকে জমা দিতে বলে এবং প্রত্যেক স্কুলে ৬টি করে সিসি ক্যামরা লাগিয়ে প্রধান শিক্ষকদেরকে ৪৫ হাজার টাকার ভাউচার ধরিয়ে দেয়। 

 

কিন্তু বিভিন্ন বিদ্যালয়ে সরেজমিনে গিয়ে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, যে সিসি ক্যামরা, ডিভিআর, হার্ডডিস্ক এবং মনিটর লাগানো হয়েছে সার্ভিস চার্জসহ প্রতি স্কুলের এই সিসি ক্যামরার সর্বসাকুল্যে ক্রয় মূল্য ২২ থেকে ২৩ হাজার টাকা। কিন্তু ইউএনও মঈন উদ্দিন দ্বিগুন দাম দেখিয়ে প্রতি স্কুল থেকে ৪৫ হাজার টাকা তুলে নিয়ে আত্মসাৎ করে। 

 

স্কুলে জমা দেওয়া ভাউচারে দেখা যায়, ইসোনিক মনিটর ১৯ ইঞ্চি ৯২০০, হার্ডডিস্ক ৩১০৫, সিসি ক্যামরা ৬ পিচ ১২৪২০, ডিভিআর ৫৯০০, ইস্টলেশন চার্জ, ক্যাবল এবং অন্যান্য এক্সেসরিজ দাম ধরা হয়েছে ১৪৩৮৫ টাকা। মোট ৪৫ হাজার টাকা।

 

কিন্তু ঢাকা ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন আইটি ফার্মে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, যে মনিটর কেনা হয়েছে তার বাজার মূ্ল্য ৫ হাজার, হার্ডডিস্ক ১৬শ টাকা, ডিভিআরের দাম ৩ হাজার, সিসি ক্যামরা ৭ হাজার দুই শত টাকা। অর্থাৎ সার্ভিজ চার্জ ও অন্যান্য এক্সেসরিজসহ ২২ থেকে ২৩ হাজার টাকার মধ্যে যে প্রকল্প বাস্তবায়ন করা সম্ভব সেই প্রকল্পে দ্বিগুন দাম ধরে টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।

 

এগুলো নিয়ে লামা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস ও বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের মধ্যে অসন্তুষ দেখা দিয়েছে। প্রধান শিক্ষকদের মধ্যে কেউ কেউ বলছে শিক্ষা অফিস ও ইউএনও মিলে আমাদের টাকাগুলো আত্মসাৎ করার জন্য এই প্রকল্প সাজিয়েছে। অথচ নির্বাচনে নিরাপত্তা জনিত কোন সমস্যাই ছিলো না লামা উপজেলায়। 

 

নাম প্রকাশ না করা শর্তে বেশ কয়েকজন প্রধান শিক্ষক বলেন, আমরা টাকাগুলো পেলে বিদ্যালয়ের বেশ কিছু মেরামতের কাজ করে থাকি। টাকাগুলো পাবো বলে নিজের পকেট থেকে টাকা ভেঙ্গে কিছু কিছু মেরামতের কাজও করেছি। কিন্তু এখন টাকাগুলো মনে হয় আর পাবো না।

 

লামা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার দেবাশীষ বিশ্বাস বলেন, এগুলো ইউএনও স্যার জানে। উনার সাথে যোগাযোগ করেন। 

 

কেন দ্বিগুণ দামে জিনিসগুলো ক্রয় করা হলো লামা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মঈন উদ্দিনকে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি কোন সদুত্তর দিতে পারেননি। তিনি বলেন, যেহেতু আমরা প্রোডাক্টগুলোর দাম জানিনা। আপাতত একটা রেট ধরে টাকাটা জমা নিয়েছি। তাছাড়াও সিসি ক্যামরা লাগানোর জন্য কোন টেন্ডার হয়েছে কিনা জিজ্ঞেস করলে তিনি হয়নি বলে জানান। 

 

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ইউএনও মঈন উদ্দিন লামা উপজেলায় যোগদান করার পর থেকে ভূমি রেজিষ্ট্রেশন বাণিজ্য, অবৈধ বালুর নিলাম বাণিজ্য করে কোটি কোটি টাকা ভাগিয়ে নেওয়ার অসংখ্য অভিযোগও রয়েছে। তাছাড়াও লামা উপজেলার ৪০টি ব্রিকফিল্ড থেকে ৫০ হাজার টাকা করে উৎকোচ নেওয়ার ভিডিও ভাইরাল হয় কিছুদিন আগে। 

বিষয়:

এলাকার খবর

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত