চেয়ারম্যানসহ ১৫ সদস্যের বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ পুনর্ঠিত গঠিত হলো মাত্র গতকাল। পার্বত্য বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই এই পরিষদ পুনর্গঠিত হয়। কিন্তু এর মধ্যে জেলা পরিষদে কোন সদস্য না পাওয়া তিন উপজেলায় আলোচনা সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।
জেলা পরিষদ পুনর্গঠনের প্রজ্ঞাপনে দেখা যায়, বান্দরবানের ৭ টি উপজেলার মধ্যে মাত্র চারটি উপজেলা থেকে সদস্য নেওয়া হলেও তিন উপজেলা থেকে একজন সদস্যও রাখা হয়নি। অথচ বান্দরবান সদর উপজেলা থেকে চেয়ারম্যানসহ (এক উপজেলা থেকে ৯) মোট ৯ জন সদস্য নেওয়া হয়েছে। তাছাড়াও আলীকদম উপজেলা থেকে ২ জন, রোয়াংছড়ি উপজেলা থেকে ২ জন ও রুমা উপজেলা থেকে ২ জন রাখা হয়েছে। কিন্তু লামা একটি বান্দরবানের ৭ উপজেলার মধ্যে সবচেয়ে জনবহুল উপজেলা হওয়া স্বত্বেও কোন সদস্য রাখা হয়নি এই উপজেলা থেকে। তাছাড়াও নাইক্ষ্যংছড়ি ও থানচি থেকেও কোন সদস্য নেওয়া হয়নি। ফলে তিন উপজেলা জুড়ে শুরু হয়েছে আলোচনা সমালোচনার ঝড়।
বান্দরবান জেলার পাবলিক প্রসিকিউটর(পিপি) অ্যাডভোকেট আলমগীর চৌধুরী বলেন, বান্দরবান জেলার সবচেয়ে জনবহুল উপজেলা হল লামা। লামার সামাজিক, অর্থনৈতিক,যোগাযোগ ব্যবস্থা, শিক্ষা এবং জনস্বাস্থ্যমূলক বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের জন্য বান্দরবান জেলা পরিষদের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে লামা উপজেলার পক্ষ থেকে একজন প্রতিনিধি অবশ্যই দরকার । আমি মনে করছি, জেলা পরিষদ গঠনে যারা ভুমিকা রেখেছেন তাদের এই বিষয়টি বিবেচনায় রাখা দরকার ছিল। লামা যেহেতু সর্বোচ্চ জনসংখ্যার উপজেলা, সেহেতু জেলা পরিষদে লামা উপজেলার কোন সদস্য না রাখার বিষয়টি জনগণের মাঝে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
এদিকে হিন্দু সম্প্রদায় থেকে একজন সদস্যও না রাখায় তাদের মধ্যেও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বান্দরবান জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য অ্যাডভোকেট রাজিব চন্দ্র ধর বলেন, বান্দরবান জেলায় মোট ১৬,৪৫৪ জন হিন্দু ধর্মাবলম্বী বসবাস করেন। এটি বান্দরবান জেলার মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪ শতাংশ। মূলতঃ জেলা পরিষদ পুনর্গঠনে আমাদের সাথে বৈষাম্য করা হয়েছে।
বান্দরবান জেলা বিএনপির সদস্য সচিব জাবেদ রেজা বলেন, আমরা লামা থেকে সারাবন তহুরার নাম পাঠিয়েছিলাম। কিন্তু আইডিকার্ড জটিলতার কারনে তাকে বাদ দেওয়া হয়েছে। লামার মতো জনবহুল এলাকায় সদস্য না পাওয়ায় দুঃখ প্রকাশ করছি। ভবিষ্যতে সেটা রিফর্ম করা হবে। তবে নিশ্চয়তা দিচ্ছি লামাবাসী অবহেলিত হবেনা।