লোহাগাড়ায় ৯০ লাখের সড়ক বিপর্যস্ত, রক্ষায় সাংবাদিক সাইফুলের উদ্যোগ

নাজিম উদ্দিন রানা, লোহাগাড়া
 ছবি:
ছবি:

চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় নির্মাণের কয়েক মাস না যেতেই প্রায় ৯০ লাখ টাকা ব্যয়ে কার্পেটিং করা ‘বাবে দরবারে গারাংগিয়া সড়ক’টি ভারী যানবাহন ও অবৈধ দখলে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ইটভাটা ও বালুবাহী অতিরিক্ত ভারী ট্রাক চলাচল এবং সড়কের পাশে কাঠের গুঁড়ি স্তূপ করে রাখায় গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি এখন ধ্বংসের মুখে।
সড়কটি তুলাতলী, কালু আমিন সিকদারপাড়া, উত্তর আমিরাবাদ চট্টলাপাড়া, পালপাড়া ও চৌরাস্তা মাথা হয়ে সাতকানিয়া-লোহাগাড়া সীমান্ত এলাকার হাজারো মানুষের যাতায়াতের অন্যতম প্রধান পথ। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর সম্প্রতি প্রায় ৯০ লাখ টাকা ব্যয়ে সড়কটির কার্পেটিং কাজ শেষ হলেও কয়েক মাসের মধ্যেই বিভিন্ন স্থানে গর্ত ও ভাঙন দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পার্শ্ববর্তী ইটভাটা থেকে ৩০ টনের বেশি ধারণক্ষমতার ডাম্প ট্রাক ও ইটবাহী ট্রাক নিয়মিত চলাচল করছে। পাশাপাশি ১০ চাকার ভারতীয় টাটা গাড়িতে অতিরিক্ত বালু পরিবহন করা হচ্ছে। এতে সদ্য নির্মিত সড়কটির বিভিন্ন অংশ দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
অন্যদিকে, সড়কের দুই পাশে কাঠের গুঁড়ি স্তূপ করে রাখায় রাস্তা সংকুচিত হয়ে পড়েছে। কাঠ ওঠানো-নামানোর সময় সড়কের ওপরও চাপ পড়ছে। ভারী যানবাহনের হাইড্রোলিক হর্নে বাড়ছে শব্দদূষণ, ঝুঁকিতে পড়ছে শিক্ষার্থী, পথচারী ও ছোট যানবাহন।
সড়কটি রক্ষায় এলাকাবাসীর পক্ষে গণমাধ্যমকর্মী সাইফুল ইসলাম গত ৯ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। এতে সরেজমিন তদন্ত করে অতিরিক্ত ভারী যানবাহন চলাচল বন্ধ, সড়কের দুই পাশ দখলমুক্ত এবং সরকারি অর্থে নির্মিত সড়কটি রক্ষায় দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়।
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, সরকারি অর্থ ও জনগণের করের টাকায় নির্মিত সড়ক কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থে ধ্বংস করতে দেওয়া হবে না। সরকারি সম্পদ নষ্টকারী ও অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে সরকারি সম্পদ রক্ষায় বৃহত্তর আন্দোলনে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্থানীয়রা।

বিষয়:

এলাকার খবর

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত