১৩ বছর পর চাকঢালা মহিউচ্ছুন্নাহ দাখিল মাদ্রাসায় সুপার নুরুজ্জামানের যোগদান

জাহাঙ্গীল আলম কাজল, নাইক্ষংছড়ি
 ছবি:
ছবি:

দীর্ঘ প্রায় ১৩ বছর পর বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার সদর ইউনিয়নের চাকঢালা মহিউচ্ছুন্নাহ দাখিল মাদ্রাসায় পূর্ণাঙ্গ সুপার পদে পুনরায় যোগদান করেছেন মোহাম্মদ নুরুজ্জামান। রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এনামুল হাসান স্বাক্ষরিত চিঠির মাধ্যমে তাকে স্বপদে যোগদানের অনুমোদন দেওয়া হয়।

অনুমোদন পাওয়ার পর একই দিন সকালে মাদ্রাসায় গিয়ে ভারপ্রাপ্ত সুপার আব্দুল খালেকের কাছ থেকে দায়িত্ব বুঝে নেন মোহাম্মদ নুরুজ্জামান। পরে তিনি মাদ্রাসার দাপ্তরিক কার্যক্রমে অংশ নেন।

মোহাম্মদ নুরুজ্জামান এ মাদ্রাসারই প্রাক্তন শিক্ষার্থী। তিনি ১৯৯৯ সালে মাদ্রাসাটির সুপার পদে যোগদান করেন। স্থানীয়দের মতে, তার দায়িত্বকালে প্রতিষ্ঠানটি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে একাধিকবার শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে। ২০১৩ সালে বিভিন্ন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ।

পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘ আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া চলে। সর্বশেষ ২৪ জুন ২০২৬ তারিখে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে দায়ের করা অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় বরখাস্তের আবেদন খারিজ করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

এরপর উচ্চ আদালত ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে এক মাসের মধ্যে মোহাম্মদ নুরুজ্জামানকে মাদ্রাসায় যোগদানের সুযোগ দেওয়ার নির্দেশ দেন। আদালতের ওই নির্দেশনার পর তার যোগদানের আবেদন অনুমোদন করা হয়।

দীর্ঘ সময় পর পূর্ণাঙ্গ সুপার হিসেবে মোহাম্মদ নুরুজ্জামানের যোগদানের খবরে মাদ্রাসার প্রাক্তন শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবকসহ সংশ্লিষ্টদের মধ্যে আনন্দের সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তার যোগদানের খবর নিয়ে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।

মাদ্রাসার প্রাক্তন শিক্ষার্থী কবির আহমদ বলেন, “আলহামদুলিল্লাহ। সবরের মেওয়া ফলে এবং সত্যের জয় একদিন না একদিন অনিবার্য—এটা তারই দৃষ্টান্ত। দীর্ঘ এই যাত্রায় যারা পাশে ছিলেন, তাদের প্রত্যেকের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। এটি শুধু একজন ব্যক্তির বিজয় নয়; বরং একটি প্রতিষ্ঠানকে প্রতিকূলতা থেকে আলোর পথে এগিয়ে নেওয়ার জন্য যারা নিরলসভাবে কাজ করেছেন, এটি তাদেরও বিজয়।

দীর্ঘদিন পর মোহাম্মদ নুরুজ্জামানের স্বপদে যোগদানের মধ্য দিয়ে মাদ্রাসাটির প্রশাসনিক কার্যক্রমে নতুন গতি আসবে বলে প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিষয়:

এলাকার খবর

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত